For Advertisement

সরকারি খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ

৮ জানুয়ারি ২০২৩, ৬:৪০:৫৫

নিজেস্ব প্রতিনিধি রাঙ্গাবালী,পটুয়াখালী

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একটু জমিও ফাকা রাখা যাবেনা। সেই ¯স্লোগানকে সামনে রেখে কৃষকরা জমি চাষাবাদ করতে চয়েছিলেন কিন্তু পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবী ইউনিয়নের ভূইয়া কান্দা গ্রামের দোয়াইল্লার খালে বাঁধ (ঘের) ও পুকুর করে মাছ চাষের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশীদের বিরুদ্ধে। এ খালে বাধ ও পুকুর করে স্থানীয় কয়েকজন মাছ চাষ করছেন। বাঁধ দেওয়ার কারণে খালে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় বীজতলাসহ ফসল আবাদে ক্ষতির শিকার হচ্ছে চাষিরা। আর বৃষ্টি হলেই ঘরবাড়ি ফসলি জমি জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। পানিতে তলিয়ে থাকায় বাড়ি থেকে বেড় হতে হয় কষ্ট করে।
এই খালে প্রায় ২০ বছরের বেশি সময় ধরে এভাবে বাঁধ দেওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন খালের দুই পাড়ের বাসিন্দারা ও কৃষকরা। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও শুকনো মৌসুমে তরমুজ চাষে মিষ্টি পানির অভাব দূর করতে বাঁধ কেটে খাল দখলমুক্ত করে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করার জন্য ভূইয়াকান্দা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা রাঙ্গাবালী কৃষি অফিস ও ভূমি কমিশনারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
কৃষকরা জানান, আমন আবাদের সময় অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার ফলে চাষাবাদ ব্যাহত হয়। পানি নামোনোর সময়ে তারা পানি নামায় না। পানি আটকে রেখে মাছ চাষ করছেন তারা। এতবড় খালে ২০-২২ ইঞ্চি একটি কপাট করে তাদের ইচ্ছা মতো পানি উঠায় এবং নামায়। এভাবে এই ভূমি দস্যুরা সরকারি জায়গা আটকে নিজেদের দখলে নিয়ে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করেলে কৃষরা ভবিষ্যতে জমি চাষাবাদ করতে পারবেনা। প্রভাবশালীরা মাছ চাষ করে তাদের নিজেদের ভাগ্য উন্নায়ন করার জন্য। সেখানে গরিব কৃষক জমি চাষের অভাবে মরে যাচ্ছে এতে বড় লোকের কি আসে যায়। এত কষ্ট করে আমাদের জন্য চাষাবাদ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। যেখানে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষকদের জমি চাষাবাদের জন্য একটুও জমি ফাকা রাখা যাবেনা বলেছেন, সেখানে আমরা চাই সম্পূর্ন জমি চাষাবাদ করতে। এভাবে প্রভাবশালীরা সরকারি খাল আটকে মাছ চাষ করলে বর্ষায় জলাবদ্ধতার ফলে চাষাবাদ করতে পারিনা আমরা আবার শুকনো মৌসুমে পানির অভাবে তরমুজ খেতে পানি দিতে পারিনা। আমাদের এলাকাবাসীর দাবি খালটি কেটে দেয়া হলে কৃষকরা চিন্তা মুক্ত চাষাবাদ করতে পারবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দোয়াইল্লার খালটি প্রায় দুই কিলোমিটার র্দৈঘের পাশ রয়েছে ৫০-৬০ ফিট আবার কোন জায়গায় পাশ একটু কম বেশি রয়েছে। খালটির দক্ষিণ পাশে রয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং পশ্চিমে হারির খাল। তবে খালের বিভিন্ন স্থানে বাঁধ দিয়ে ঘের ও পুকুর তৈরি করা হয়েছে। এতে পানিপ্রবাহ বন্ধ আছে।
কৃষক মোশাররাফ বলেন, এই খালটি যখন ছাড়া (খোলা) ছিল তখন আমরা খালে মাছ ধরে বিক্র সংসার চালাতাম। খাল বাঁধ দেয়ার পরে মাছ ধরাতো দুরের কথা ঠিকমতো জমি চাষ করতে পারিনা। যখন জমিতে পানির প্রয়োজন তখন দেখি জমিতে পানি থাকেনা। আবার যখন জমিতে প্রয়োজন নেই অতিরিক্ত বৃষ্টি হয়েছে তখন তারা পানি নামায়না। আমরা কৃষকরা প্রভাবশালীদের কাছে জিম্মি সরকারি খাল বাঁধ দিয়ে তারা আটকে রাখছে। সরকার যদি বাঁধ কেটে দেয় আমরা ভালোভাবে কৃষি কাজ করতে পারবো।
রাঙ্গাবালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইকবাল আহম্মেদ বলেন, আমাদের মৌডুবীর দোয়াইল্লার খাল কতিপয় কিছু লোক তাদের দখলে রাখছে। এই খালটি অবমুক্ত করার জন্য আমরা প্রশাসনিক ভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছি। ইতি মধ্যে আমাদের উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষয়টি পজেটিভ ভাবে নিয়েছেন সে খালঠি অবমুক্ত করতে চান। এবং এই খালটি যারা দখলে রাখছে আমরা তাদের নামের তালিকা করতেছি। এবং ওই খালের আশে-পাশে প্রায় ৩০০ একর জমি আছে যাতে করে কৃষকরা জমি চাষাবাদ করতে পারে আমরা প্রশাসনিক ভাবে ব্যাবস্থা নিবো।
রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত) সালেক মুহিদ বলেন, এরকম কিছু অভিযোগ পেয়েছি। সরকারি খাল অবমুক্ত অভিযান অব্যাহত আছে। পর্যায়ক্রমে সরকারি সব খাল অবমুক্ত করা হবে।

For Advertisement

দৈনিক আলোর প্রতিদিন’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: